সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য

দর্শক, আপনাদের সাথে আছি আমি বিএম বেলাল। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য।


বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মাঝে অসংখ্য প্রবাল রাশি মিলে মিশে একাকার হয়ে তৈরি করেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। টেকনাফ থেকে নাফ নদী পেরিয়ে জাহাজ যখনি সমুদ্রে প্রবেশ করবে আপনি হারিয়ে যাবেন নীলের এক অসীম আবেশে। দ্বীপের যত কাছে যেতে থাকবেন আপনি, তত মনে হতে থাকবে ‘কখন নামব, কখন ছুটে যাব সমুদ্রের জলে!’ তবে সেন্টমার্টিনে এমন দৌড় দিলে ভুলই হবে আপনার। যেমন আছে চোরাবালির ভয় তেমনি আছে অসংখ্য কোরাল। তাই সাবধানে এগোনোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।সামনে আসছে শীতকাল। তাই শীতকালে ভ্রমণ করার উপযোক্ত দর্শনীয় স্থান হলো সেন্টমার্টিন।শীতকালে ভ্রমণ মানেই যেন সমুদ্র। হালকা শীতল আবহাওয়া, সমুদ্রের শান্ত ঢেউ আর মৃদু গর্জন সে তো বিশ্রাম আর শান্তির আরেক নাম। আমাদের দেশে শীত ঋতুটা আসে ছুটির সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে। স্কুল-কলেজ বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়েও থাকে শীতকালীন ছুটি। জানুয়ারির এই সময়টাতেও ছুটির সে আমেজ কাটেনি। তাই পরিবার নিয়ে অথবা বন্ধুরা সবাই মিলে ঘুরে আসতে পারেন সেন্ট মার্টিন। সমুদ্রের এই নীল একবার দেখলে আজীবন চোখে লেগে থাকবে তার মায়া।চারিদিকে নীল জলরাশি দিয়ে বেষ্টিত বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। হাজারো ভ্রমন পিপাসুদের মতো আমারও সপ্ন ছিল নীল জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপটি চোখে দেখার কিন্ত সেই সপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে গিয়ে বারবার ফিরে এসেছি অর্থ সংকটের কারনে। তবে খোজ নিয়ে দেখলাম স্বল্প টাকায়ও এই সপ্নকে বাস্তবে রুপ দেওয়া যায়। স্বল্প টাকার চিন্তাকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা করলাম সেন্টমার্টিন যাওয়ার। আমার সেন্টমার্টিন ভ্রমণ কাহিনী পরের ব্লগে প্রকাশিত হবে, আশাকরি সবাই পরের ব্লগটি দেখবেন! আজকে বলছি, কিভাবে আপনার সেন্টমার্টিন যাবেন, কোথায় থাকবেন, সর্বমোট খরচ কতো টাকা লাগবে ইত্যাদি।সেন্টমার্টিন ভ্রমণকারী বেশীরভাগ মানুষই মূলত আসেন কক্সবাজারে বেড়াতে। সেখান থেকে সেন্ট মার্টিনে এসে মাত্র ৩ ঘন্টা বেড়িয়ে ফিরে যান আবার। সেন্ট মার্টিনে জাহাজ আসে ১২টায়, আবার সেই জাহাজ ফেরে ৩টায়। স্বল্প সময়ের এমন ভ্রমণে চেনা যাবে না এই দ্বীপকে। কারণ নারকেল জিঞ্জিরার আসল সৌন্দর্য্য ফুটে ওঠে বিকেলে। ৩টার জাহাজে আপনি যখন ছেড়ে যাচ্ছেন দ্বীপ তখনই নীল রঙ ধরেছে সমুদ্র। সেই রঙ আরও গাঢ় হচ্ছে, হচ্ছে আরও সুন্দর।

 
সমুদ্রকে পরিপূর্ণরূপে উপভোগ করতে অন্তত ২টি দিন থাকুন। ছোট্ট এই দ্বীপটি আপনাকে ভরিয়ে রাখবে মজার মজার সব অভিজ্ঞতায়। এখানে সবচেয়ে মজার বিষয় হল, জায়গাটি যেহেতু মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা আর কম পর্যটকেরাই রাত্রিযাপন করেন এখানে তাই বেশীরভাগ সময়ই আপনি উপভোগ করতে পারবেন একান্ত নিরবতা।
 
বালিতে ঢাকা সেন্টমার্টনের বিচ ধরে হেঁটে যেতে পারেন অনেকটা। এখানে অনিরাপত্তা বলে কিছু নেই। স্থানীয়রা খুবই অতিথিপরায়ণ। দ্বীপের পেছনের দিকটা আরও নিরব, শান্ত। এখানে কোন একটা বেঞ্চিতে বসে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায় এক জীবন। জোয়ারের সময় কিছুটা উত্তাল হয় সমুদ্রের ঢেউ, তবে বেশিরভাগ সময়ই থাকে শান্ত। সেই শান্তি ছুঁয়ে যায় মানুষের মন, প্রশান্ত করে আত্মাকে। 

সমুদ্রকে দেখা ছাড়াও সময়কে উপভোগ্য করতে আরও অনেক কিছু করতে পারেন আপনি। যেমন: স্কুভা ডাইভিং। বেসরকারি উদ্যোগে এই ডাইভিং এর প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে বছর ২ যাবৎ। আপনি সাঁতার না জেনেও ডাইভিং করতে পারবেন। তবে সমুদ্রে নামার আগে স্বল্প সময়ের একটি প্রশিক্ষণ নিতে হবে আপনাকে। এছাড়া সাইকেল ভাড়া করে সাইকেল চালাতে পারেন।
 
সেন্টমার্টিনের আরেক মজা সামুদ্রিক মাছে। তরতাজা মাছ রান্না হয় নানানভাবে, করা হয় বারবিকিউ। হোটেলগুলোতে গিয়ে নিজের পছন্দমত মাছটি বেছে নিতে পারেন। তারপর আপনি যেভাবে খেতে চান তাৎক্ষণিক সেভাবেই তৈরি করে দেওয়া হবে আপনাকে। তবে আগেই বলে রাখছি, সেন্ট মার্টিন ফাস্ট ফুড বা গ্রীল চিকেন খাওয়ার জায়গা নয়। সমুদ্রের কাছে গিয়ে সমুদ্রের খাবারই খেতে হবে। কাঁকড়া, লবস্টার, চিংড়ীও পাবেন এখানে। আর হ্যাঁ, মাছ বা সামুদ্রিক প্রাণীর বাইরে খেতে পারেন মন ভরে যত ইচ্ছা ডাব!

ছেড়া দ্বীপঃসেন্টমার্টিন যাবেন আর ছেঁড়া দ্বীপ যাবেন না তাই কি হয়? সেন্ট মার্টিন থেকে প্রতিদিন বিকেলে বড় ইঞ্জিন নৌকা যায় ছেঁড়া দ্বীপে। সেখানে কেউ থাকে না। ভ্রমণকারীদের নিয়েই হয় সেই যাত্রা। যেতে পারেন স্পীডবোটেও। ছেঁড়া দ্বীপের কাছাকাছি যেতে দেখতে পাবেন বড় একটি পাথর। স্থানীয়রা একে বলে মৌসুমি পাথর। নায়িকা মৌসুমি নাকি তার প্রথম সিনেমার শুটিং করতে এসেছিলেন এখানে আর এই পাথরটিতেই বসতে হয়েছিল তাকে। সেই থেকে এর এমন নাম। ভাটা থাকলে ছেঁড়া দ্বীপ থেকে হেঁটেই ফিরতে পারবেন আপনি মূল দ্বীপে। সে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে যাওয়া আসার খরচ:
ঢাকা টু টেকনাফ বাস ভাড়া ৯০০ (নন-এসি) ১৫০০-২০০০ (এসি)
টেকনাফ টু সেন্টমার্টিন- যাওয়া আসা ভাড়া ৫৫০ থেকে শুরু, জাহাজভেদে ১০০০-১২০০ টাকা নিবে। যাওয়া আসার টিকেট একসাথেই কাটা হয়, কবে যাবেন আর কবে ফিরবেন সেটা আগে থেকে বলে দিতে হবে, সেন্টমার্টিনে ১ দিন থাকেন বা ২ দিন থাকেন, জাহাজ ভাড়া একই।
কেউ যদি টিকেটে উল্লেখিত তারিখে না ফিরে অন্যদিন ফিরতে চান তাহলে সেটাও সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে সীটের নিশ্চয়তা থাকবেনা।
ঢাকা থেকে টেকনাফগামী বাসগুলো সাধারণত সন্ধ্যা ৭টা বা ৭:৩০ এ ঢাকা থেকে রওনা দেয়, পরদিন সকাল ৭-৮ টায় জাহাজ ঘাটায়

আপনাকে নামিয়ে দিবে, ওখান থেকেই শীপ ধরতে পারবেন। সাধারণত সকাল ৯:৩০ টার দিকে শীপগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, ১১:৩০ বা ১২ টার দিকে শীপ সেন্টমার্টিনে পৌছে যায়।
বিকেল ৩ টার দিকে শীপ সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
দুপুরে বা বিকেলে টেকনাফ থেকে কোন শীপ সেন্টমার্টিন যায়না, আবার সকালেও সেন্টমার্টিন থেকে কোন শীপ টেকনাফে আসেনা, সব শীপের শিডিউল একই রকম।
শীপ মিস করলে ট্রলারে চড়ে যেতে পারেন, ভাড়া ২০০ টাকা, শুধু একপথে যাওয়া কিংবা আসা। টেকনাফ শহর থেকেই ট্রলার ছাড়ে।
ছুটির দিনগুলোতে আগে থেকেই শীপের টিকেট কেটে রাখা ভাল, অন্যান্য দিন ঘাটেই মিলবে টিকেট ।
সেন্টমার্টিনে থাকার খরচ জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা পড়ে, অর্থাৎ মোটামুটি মানের হোটেল বা রিসোর্টে এক রুমের ভাড়া সাধারণত ১২০০-২০০০ টাকা নেয়, এক রুমে ৪ জন থাকা যায়।টানা কয়েকদিন ছুটির দিন থাকলে রুমের ভাড়া আরো একটু বাড়তে পারে।
সেন্টমার্টিনে ৭০-৮০ টাকায় সকালের নাস্তা, ১৩০-১৮০ টাকায় দুপুরের আর রাতের খাবার খেতে পারেন সামুদ্রিক মাছ দিয়ে। রূপচান্দা দিয়ে খেতে চাইলে দামটা একটু বেশিই পড়বে। রাতের বেলা বার-বি-কিউ পার্টি করতে চাইলে জনপ্রতি ১৭০-২০০ টাকা পড়তে পারে, সেন্টমার্টিন গেলে অন্তত এক বেলা এটাও ট্রাই করে দেখতে পারেন।
ছেঁড়াদ্বীপ যাবেন অবশ্যই, এটা না দেখে ফিরবেন না।
ট্রলারে চড়ে গেলে জনপ্রতি ১৫০ টাকা নিবে ভাড়া, স্পীডবোট রিজার্ভ ১৬০০-১৮০০ টাকা নিবে যাওয়া আসা, দরদাম করে গেলে কিছুটা কমে পাওয়া যেতে পারে । একটা স্পীডবোটে ৬ জন বসা যায়। ট্রলার বা স্পীডবোট আপনার জন্যে দেড় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করবে ছেঁড়াদ্বীপে, আবার আপনাদেরকে নিয়ে ফিরে আসবে। যেখানে টেকনাফের শীপ থামে সেখানেই ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার বোট পাওয়া যায়। ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছেঁড়াদ্বীপ ঘুরে ফিরে আসা যায়।

সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটেও  হেটেও ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া যায়, তবে তা ভাটার সময়, স্থানীয়দের কাছ থেকে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিতে পারেন।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে যাওয়া আসা :
চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি টেকনাফের বাস আছে, সিনেমা প্যালেস (লালদীঘির পাড়) থেকে রাত ১ এবং ১.৩০ টার দিকে কিছু বাস ছাড়ে, সকালে টেকনাফ পৌঁছে, ভাড়া ৪০০ টাকা।
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে চাইলে শহর থেকে টেকনাফ যাওয়া লাগবে প্রথমে, ভাড়া ১৫০ টাকা নিবে। খুব ভোরে রওনা দিতে হবে, নয়তো শীপ মিস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফ গিয়ে শীপ ধরা সম্ভব না, প্রাইভেট গাড়িতে করে গেলে সম্ভব হতেও পারে।
অনেকেই ঢাকা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে তারপর ওইদিনই বাসে করে কক্সবাজার বা টেকনাফ গিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন, এটা কোন মতেই সম্ভব না। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যেতেই  ৪-৫ ঘন্টা লেগে যায়, টেকনাফ তো আরো বহুদূর।

থাকবেন কোথায় :সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। ১৬টি হোটেলসহ বেশ ক’টি কটেজে প্রতিরাতে কমপক্ষে পাচশ জন পর্যটক থাকতে পারেন। অনেক বাড়িতেও আছে পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা। ভাড়া পড়বে ২০০-২৫০ টাকা, শীত মৌসুমে চাপ বেশি বিধায় ইচ্ছামতো ভাড়া নেয় মালিকরা। এবার জেনে নিন সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় হোটেলের তালিকাঃ


 

হোটেলের ঠিকানা :সীমানা পেরিয়ে : ১০টি রুমের প্রতি রুমে ৪ জন থাকার ব্যবস্থা আছে। ভাড়া রুম প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা, তাঁবুতে ৪ জন করে ৩০০ টাকা। খাবার খরচ জনপ্রতি ৫০-৭০ টাকা। যোগাযোগ জাহাঙ্গীর ।

 

প্রিন্স হেভেন :রুম সংখ্যা ১৮টি, ডাবল রুমের ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা। একসঙ্গে ৪ জনের থাকার ব্যবস্থা। সিঙ্গেল রুমে থাকার ব্যবস্থা দু’জনের ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। যোগাযোগ : ০১৮৯৩০৮০৫৮। ব্ল–মেরিন রিসোর্ট-৩৪টি অতিথি রুমসহ ১৮টি ডাবল বেডরুম। ট্রিপল রেডরুম ১৩, ছয়জনের বেডরুম ৫টি এবং কটেজ ২টি। ভাড়া ডাবল ১০০০ টাকা, ট্রিপল ১২০০ টাকা, ৬ বেড ১৫০০ টাকা, ৫ বেডের কটেজ ২৫০০ টাকা।

 

সমুদ্র বিলাস (লেখক হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি) :৪ রুমের এই বাড়িতে প্রতি রুমের ভাড়া ৫০০-১০০০ টাকা।

আরও আছে বিচ ক্যাম্প ; হোটেল সাগর পাড় এবং রিয়াদ গেস্ট হাউজ । আছে হোটেল স্বপ্ন প্রবাল, শ্রাবণ বিলাস, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরিন পার্ক। পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতি বাড়িতে আবাসিক সুবিধা পাওয়া যায়। সরাসরি এসব বাড়িতে গিয়ে আলাপ করে থাকা যায়

বি দ্রঃ ভাড়ার কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

প্রয়োজনীয় টিপস :
.সেন্টমার্টিনে প্রতিটি ডাব ৪০-৬০ টাকায় পাবেন।
.সাইকেল ভাড়া ঘণ্টাপ্রতি ৪০ টাকা ।
.সকাল ১০-১১ টার দিকে অথবা বিকেলের কোন এক সময়ে পারলে জেটির পাশে এসে বসে থাকবেন, পানির রঙ দেখে মন ভরে যাবে।
ভ্রমণের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রবাল-শৈবাল নিয়ে আসবেন না।
.যেখানে সেখানে পানির বোতল, খালি চিপস এর প্যাকেট বা অপচনশীল জিনিস ফেলবেন না।
.শীপে চড়ে যাওয়ার সময় অনেককেই দেখা যায় চিপসের খালি প্যাকেট সমুদ্রে ফেলে দেন, এমনটা করবেন না প্লিজ, আপনার সাথে ভ্রমণসঙ্গীকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করুন।



1 comment: